আল্লাহ তাআলা কুরআনে একটা খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয় উল্লেখ করছেন। সূরা আল-কাহফে আল্লাহ বলেন, “তবে কি তোমরা আমাকে ছেড়ে ইবলিস ও তার সন্তানদের অভিভাবক বা সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করবে?”

এই একটা আয়াতেই বুঝা যায়, ইবলিস একা না, তার বংশধরও আছে। আবার সূরা আশ-শুআরায় আল্লাহ বলেন, কিয়ামতের দিন ইবলিসের “জুনুদ”, অর্থাৎ তার পুরো বাহিনীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

মানে কুরআন শুধু একজন শয়তানের কথা বলে না, বরং একটা সুসংগঠিত ব্যবস্থার কথাও বলে। এখন প্রশ্ন হইল, এই ধারণাটা কি শুধু কুরআনের, নাকি প্রাচীন পৃথিবীর মানুষও অপশক্তিরে এইভাবেই বুঝত?

উত্তর হইল, তারাও অনেকটা এইভাবেই বুঝত। Tarikh al-Rusul wa al-Muluk গ্রন্থে Al-Tabari হযরত আইয়ূব (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে একটা রেওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইবলিস যখন হযরত আইয়ুব (আ.)-কে পরীক্ষা করার অনুমতি পায়, তখন সে একা যায় নাই। সে তার সব শয়তানদের একত্র করে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে কার কী ক্ষমতা আছে?”

একজন বলে, “আমি মানুষরে পথভ্রষ্ট করি।” আরেকজন বলে, “আমি ধন-সম্পদ ধ্বংস করি।” তৃতীয়জন বলে, “আমি রোগ-ব্যাধি ছড়াই।”

এরপর ইবলিস প্রত্যেকরে তার যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝাইয়া দেয়। মানে এখানে একটা স্পষ্ট হায়ারার্কি দেখা যায়। প্রত্যেকের আলাদা কাজ, আলাদা দায়িত্ব, আলাদা ক্ষেত্র। মজার বিষয় হইল, এই ধারণা শুধু তাবারির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ না।

Babylonian Talmud-এও বিভিন্ন শয়তানের নাম, তাদের ক্ষমতা আর প্রভাবের কথা পাওয়া যায়। কোথাও Ashmodai, কোথাও Lilith, আবার কোথাও এমন সব অপশক্তির কথা বলা হইছে যারা মানুষের ক্ষতি করে।

এরপর আনুমানিক তৃতীয় শতাব্দীতে আসে The Testament of Solomon। এই গ্রন্থে দাবি করা হয়, হযরত সুলাইমান (আ.) বিভিন্ন শয়তান বা ডিমনদের ডাইকা জিজ্ঞেস করতেন, “তোমার নাম কী? তোমার ক্ষমতা কী? তুমি কোন ধরনের মানুষের ক্ষতি করো?”

তখন প্রত্যেকে আলাদা আলাদা কাজের কথা বলত। কেউ রোগ ছড়ায়, কেউ প্রতারণা করে, কেউ লালসা ছড়ায়, কেউ অহংকার তৈরি করে।

গল্প এখানেই শেষ না। মধ্যযুগে ইউরোপে The Lesser Key of Solomon নামে একটা বই খুব জনপ্রিয় হয়। এর প্রথম অংশ Ars Goetia-তে ৭২ জন শয়তানের তালিকা দেওয়া হয়। প্রত্যেকের আলাদা পদমর্যাদা, যেমন রাজা, রাজপুত্র, ডিউক, মারকুইস, প্রেসিডেন্ট, আর্ল। প্রত্যেকের অধীনে আবার আলাদা লিজিয়ন বা সৈন্যদল। মানে অপশক্তিরেও একটা সামরিক কাঠামোর মতো কল্পনা করা হইছে।

এখন প্রশ্ন হইল, এত ভিন্ন ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতার, ভিন্ন ভিন্ন বইয়ে একটা মিল কেন? প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে এই ধারণাটাই দিছে যে, শয়তান বা অপশক্তি বিশৃঙ্খল না, বরং সংগঠিত।

তবে মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা অন্য জায়গায়। শয়তানদের হায়ারার্কি জানাটা মূল উদ্দেশ্য না।

কুরআন এইসব তথ্য দিয়া কৌতূহল মেটাইতে আসে নাই। কুরআনের আসল প্রশ্ন হইল, এতসব বাহিনীর মধ্যে আপনি কার অনুসারী? আপনি আল্লাহর দলে, নাকি ইবলিসের দলে? শেষ পর্যন্ত হিসাবটা এইখানেই।

আজই যুক্ত হও পাঙ্গাশ পুকুরে..

নিয়মিত নটিফিকেশন পেতে নতুন নতুন আর্টিকেলের আজ ই যুক্ত হও, মনারা। মিস যাবে না একটা আর্টিকেলও।

We don’t spam!