ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় নারী ডেমোনিক এন্টিটি, নাকি হাজার বছরের ভুল বোঝাবুঝি?
আল্লাহ তাআলা কুরআনে এমন অনেক সত্তার কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের আমরা দেখতে পাই না। জিন, শয়তান, ইবলিস, ফেরেশতা, কারিন, ইফরিত, মারিদ, এদের নিয়ে কুরআন ও হাদিসে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত নারী ডেমোনিক এন্টিটিগুলোর একটি, “লিলিথ”, সম্পর্কে কুরআন একবারও কোনো কথা বলে না।
এখন প্রশ্ন হলো, লিলিথ কে?
সে কি সত্যিই আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী ছিল?
নাকি হাজার বছরের লোককথা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং পৌরাণিক কাহিনি মিলিয়ে তৈরি হওয়া এক চরিত্র?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরতে হবে প্রায় চার হাজার বছর আগের মেসোপটেমিয়ায়।
সেখানেই প্রথমবারের মতো ইতিহাসে এমন কিছু নাম দেখা যায়, যেগুলোকে পরবর্তীকালে অনেক গবেষক লিলিথ ধারণার পূর্বসূরি বলে মনে করেন।
তবে এখানেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।
আজকের “Lilith” এবং প্রাচীন “Lilitu” এক জিনিস, এমন কথা কোনো একাডেমিক গবেষক নিশ্চিতভাবে বলেন না।
বরং অধিকাংশ গবেষক বলেন, আধুনিক লিলিথ ধারণার শিকড় সম্ভবত এই প্রাচীন নামগুলোর মধ্যেই রয়েছে।
এই কারণেই আমাদের ইতিহাস শুরু করতে হবে সুমের থেকে।
প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সুমেরীয় ভাষার বিভিন্ন মাটির ফলকে “Lil” শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়।
সুমেরীয় ভাষায় Lil শব্দের অর্থ ছিল বাতাস, ঝড় কিংবা অদৃশ্য হাওয়া।
এই শব্দ থেকেই পরবর্তীকালে তৈরি হয়,
Lilitu
Ardat-Lili
Lilu
এবং আরও কয়েকটি শব্দ।
তবে এগুলো কোনো একক চরিত্র ছিল না।
এগুলো ছিল বিভিন্ন ধরনের আত্মা বা অতিপ্রাকৃত সত্তার নাম।
এখন প্রশ্ন হলো, এই Lilitu কে ছিল?
আক্কাদীয় এবং ব্যাবিলনীয় ধর্মীয় লেখাগুলোতে Lilitu-কে এক ধরনের নারী আত্মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
দাবি করা হতো, সে রাতের অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়।
মানুষের ঘরে প্রবেশ করে।
শিশুদের ক্ষতি করে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য বিপদ ডেকে আনে।
তবে এখানেই গবেষকরা সতর্ক করেন।
এই বর্ণনাগুলো ধর্মীয় ইতিহাসের অংশ নয়।
এগুলো মূলত প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার লোকবিশ্বাস, জাদুবিদ্যা এবং অপদেবতা সম্পর্কিত ধারণা।
এখন বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের দিকে রচিত বিখ্যাত সুমেরীয় সাহিত্য Inanna and the Huluppu Tree-তে একটি রহস্যময় সত্তার উল্লেখ পাওয়া যায়।
গল্প অনুযায়ী, দেবী Inanna একটি Huluppu গাছ রোপণ করেন।
অনেক বছর পরে তিনি দেখতে পান, সেই গাছের বিভিন্ন অংশে তিনটি ভিন্ন সত্তা বাসা বেঁধেছে।
শিকড়ে একটি সাপ।
ডালে Anzu পাখি।
আর গাছের কাণ্ডে বাস করছে Ki-sikil-lil-la-ke নামে এক রহস্যময় নারী সত্তা।
বহু বছর ধরে অনেক গবেষক এই চরিত্রকেই লিলিথ বলে মনে করতেন।
কিন্তু আধুনিক গবেষণা এখানে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
Samuel Noah Kramer এবং Bendt Alster-এর মতো গবেষকরা দেখিয়েছেন, Ki-sikil-lil-la-ke-কে সরাসরি Lilith বলা ভাষাতাত্ত্বিকভাবে নিশ্চিত নয়।
অর্থাৎ বহু জনপ্রিয় বইয়ে এই দাবিটি থাকলেও বর্তমান একাডেমিক মতামত অনেক বেশি সতর্ক।
এখানেই গবেষণার সৌন্দর্য।
যে তথ্য একসময় নিশ্চিত বলে মনে করা হতো, নতুন গবেষণা অনেক সময় সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এরপর যদি আমরা আক্কাদীয় যুগে যাই, তখন দেখা যায় Lilitu নামটি আরও স্পষ্টভাবে ব্যবহার হতে শুরু করেছে।
বিভিন্ন মন্ত্র, জাদুর ফলক এবং রোগ প্রতিরোধের প্রার্থনায় Lilitu-র উল্লেখ পাওয়া যায়।
মানুষ বিশ্বাস করত, এই নারী ডেমোনিক এন্টিটি নবজাতক শিশুদের ক্ষতি করতে পারে।
এই কারণেই গর্ভবতী নারীরা বিশেষ তাবিজ ব্যবহার করত।
আবার অনেক মাটির ফলকে Pazuzu-এর ছবি আঁকা হতো।
আজকের দৃষ্টিতে Pazuzu-কে ডেমন বলা হলেও প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় বিশ্বাস করা হতো, সে Lamashtu এবং Lilitu-এর মতো অশুভ সত্তাদের দূরে রাখতে পারে।
অর্থাৎ একটি ডেমোনিক সত্তাকে অন্য একটি ডেমোনিক সত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার ধারণাও তখন প্রচলিত ছিল।
প্রাচীন নিকটপ্রাচ্যের ধর্মীয় ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, লিলিথ কি হিব্রু বাইবেলেও এসেছে?
উত্তর হলো, এসেছে।
তবে মাত্র একবার।
Isaiah 34:14-এ একটি হিব্রু শব্দ পাওয়া যায়,
לִּילִית (Lilit)।
এই আয়াতে ভবিষ্যতের ধ্বংসপ্রাপ্ত মরুভূমির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে,
বন্য প্রাণী, শেয়াল, পেঁচা এবং Lilit সেখানে অবস্থান করবে।
এখন সমস্যা হলো,
এই শব্দের অর্থ কী?
Septuagint, অর্থাৎ প্রাচীন গ্রিক অনুবাদে এই শব্দকে অনুবাদ করা হয়েছে ভিন্নভাবে।
Latin Vulgate-এ Saint Jerome আবার অন্য শব্দ ব্যবহার করেছেন।
King James Version-এও সরাসরি Lilith লেখা হয়নি।
কোথাও “screech owl”।
কোথাও “night creature”।
কোথাও “night monster”।
আধুনিক অনুবাদগুলোর কিছুতে প্রথমবারের মতো “Lilith” নামটি সরাসরি লেখা শুরু হয়।
অর্থাৎ একই শব্দ বিভিন্ন যুগে বিভিন্নভাবে অনুবাদ হয়েছে।
এখানেই বিতর্কের শুরু।
আধুনিক হিব্রু ভাষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, Isaiah-এর Lilit সম্ভবত মেসোপটেমিয়ার Lilitu ধারণার প্রভাব বহন করে।
আবার অন্য গবেষকরা বলেন, এটি হয়তো কেবল একটি নিশাচর প্রাণীর কাব্যিক নাম।
অর্থাৎ এখানেও একমত হওয়া যায়নি।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট।
হিব্রু বাইবেলে লিলিথের উল্লেখ মাত্র একবার।
এবং সেখানে কোথাও তাকে আদম (আ.)-এর স্ত্রী বলা হয়নি।
এখন প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাহলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কেন বিশ্বাস করে, লিলিথ ছিল আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী?
এই ধারণার জন্ম কোথায়?
এর উত্তর খুঁজতে আমাদের যেতে হবে প্রায় এক হাজার বছর পরে।
একটি ছোট ইহুদি গ্রন্থের কাছে।
যার নাম,
Alphabet of Ben Sira।
সেখান থেকেই শুরু হবে লিলিথের সবচেয়ে বিখ্যাত কাহিনি।
আর সেখান থেকেই জন্ম নেবে এমন একটি কিংবদন্তি, যা আজও সিনেমা, উপন্যাস, ভিডিও গেম, আধুনিক জাদুবিদ্যা এবং পপ সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে চলেছে।
কিন্তু সেই গল্পের সঙ্গে কুরআন, সহিহ হাদিস কিংবা তাওরাতের প্রকৃত বর্ণনার সম্পর্ক কতটুকু?
লিলিথের শিকড় সম্ভবত প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার Lilitu, Lilu এবং Ardat-Lili নামের কিছু অতিপ্রাকৃত সত্তার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।
হিব্রু বাইবেলেও “Lilit” শব্দটি মাত্র একবার এসেছে।
কিন্তু সেখানে কোথাও বলা হয়নি, সে আদম (আ.)-এর স্ত্রী।
এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে এই গল্পটা এলো কোথা থেকে?
উত্তর খুঁজতে আমাদের যেতে হবে প্রায় নবম থেকে দশম শতাব্দীর একটি ইহুদি গ্রন্থে।
Alphabet of Ben Sira।
আজ পৃথিবীতে লিলিথ সম্পর্কে যত গল্প প্রচলিত, তার অধিকাংশই এই বই থেকে জনপ্রিয় হয়েছে।
তবে এখানেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
Alphabet of Ben Sira তাওরাত নয়।
এটি কোনো নবীর ওহি নয়।
এটি Babylonian Talmud-এরও অংশ নয়।
এমনকি অধিকাংশ ইহুদি ধর্মতত্ত্ববিদও একে ধর্মীয় কর্তৃত্বসম্পন্ন গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করেন না।
আধুনিক গবেষকদের মতে এটি ব্যঙ্গ, লোককাহিনি এবং নৈতিক শিক্ষার মিশ্রণে রচিত একটি মধ্যযুগীয় সাহিত্যকর্ম।
অর্থাৎ এখান থেকেই শুরু হয় সেই কিংবদন্তি, যাকে আজ অনেকেই ইতিহাস বলে বিশ্বাস করেন।
এই বই অনুযায়ী, আল্লাহ আদম (আ.) এবং লিলিথকে একই মাটি থেকে সৃষ্টি করেন।
একদিন তাদের মধ্যে কে কার অধীন থাকবে, এই নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।
লিলিথ দাবি করে,
“আমরা দুজন একই মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছি। আমি কেন তোমার অধীন হব?”
এরপর সে আল্লাহর পবিত্র নাম উচ্চারণ করে জান্নাত ত্যাগ করে চলে যায়।
এই বর্ণনায় বলা হয়, সে লোহিত সাগরের দিকে চলে যায়।
এরপর আল্লাহ তিনজন ফেরেশতাকে পাঠান,
Senoy
Sansenoy
Semangelof
তাদের দায়িত্ব ছিল লিলিথকে ফিরিয়ে আনা।
কিন্তু কিংবদন্তি অনুযায়ী, লিলিথ ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানায়।
এরপর তার ওপর অভিশাপ নেমে আসে।
দাবি করা হয়, প্রতিদিন তার একশ সন্তান মৃ//ত্যু বরণ করবে।
প্রতিশোধ হিসেবে লিলিথ মানবশিশুদের ক্ষ//তি করার শপথ নেয়।
এখান থেকেই মধ্যযুগীয় ইহুদি লোকবিশ্বাসে জন্ম নেয় একটি নতুন ধারণা।
গর্ভবতী নারী এবং নবজাতক শিশুদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ তাবিজ ব্যবহার করা হতো।
সেই তাবিজে তিন ফেরেশতার নাম লেখা থাকত।
মানুষ বিশ্বাস করত, এই নামগুলো দেখলে লিলিথ কাছে আসবে না।
আজও বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে এমন বহু তাবিজ সংরক্ষিত রয়েছে।
বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া এবং ইরানের প্রাচীন ইহুদি বসতিগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন Incantation Bowl-এ লিলিথের বিরুদ্ধে মন্ত্র লেখা পাওয়া গেছে।
এই মাটির বাটিগুলো সাধারণত উল্টো করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হতো।
বিশ্বাস করা হতো, এর মাধ্যমে অশুভ আত্মাকে আটকে রাখা সম্ভব।
এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে।
এই তাবিজ এবং মন্ত্র কি প্রমাণ করে যে লিলিথ বাস্তবেই ছিল?
উত্তর হলো,
না।
এগুলো কেবল প্রমাণ করে, সেই সময়ের মানুষ এমন একটি সত্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করত।
ইতিহাসবিদরা ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক সত্যকে এক জিনিস হিসেবে দেখেন না।
প্রত্নতত্ত্ব আমাদের বিশ্বাসের অস্তিত্ব দেখাতে পারে।
বিশ্বাসটি সত্য কি না, সেটি নয়।
এরপর যদি Babylonian Talmud-এর দিকে তাকাই, সেখানে লিলিথের নাম কয়েকবার এসেছে।
Niddah 24b, Shabbat 151b এবং Erubin 100b-এর মতো অংশে লিলিথকে দীর্ঘ চুলওয়ালা এক নারী ডেমোনিক এন্টিটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোথাও বলা হয়েছে, রাতে একা ঘুমানো উচিত নয়।
কারণ লিলিথ ক্ষ//তি করতে পারে।
তবে এখানেও একটি বিষয় লক্ষণীয়।
Talmud কোথাও বলে না, লিলিথ আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী।
এই ধারণা তখনও অনুপস্থিত।
অর্থাৎ Talmud-এর লিলিথ এবং Ben Sira-এর লিলিথ একই চরিত্র নয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুটি আলাদা ধারণা একত্র হয়ে যায়।
এরপর আসে ইহুদি রহস্যবাদ।
বিশেষ করে Kabbalah এবং Zohar।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে রচিত Zohar-এ লিলিথের চরিত্র আরও পরিবর্তিত হয়।
এখানে তাকে Samael-এর সঙ্গিনী হিসেবে দেখানো হয়।
Samael নিজেও ইহুদি রহস্যবাদে এক জটিল চরিত্র।
কখনো তাকে ফেরেশতা বলা হয়েছে।
কখনো শয়তানসদৃশ শক্তি।
কখনো আবার আল্লাহর বিচারের কার্যকরী প্রতিনিধি।
Zohar-এ লিলিথকে এমন এক নারী ডেমোনিক এন্টিটি হিসেবে দেখানো হয়, যে মানুষের কামনা, স্বপ্ন এবং দুর্বলতাকে ব্যবহার করে।
এই সময় থেকেই ইউরোপে Succubus ধারণার সঙ্গে লিলিথকে যুক্ত করা শুরু হয়।
Succubus ছিল মধ্যযুগীয় ইউরোপের লোকবিশ্বাসে এমন এক নারী ডেমন, যে রাতে মানুষের কাছে আসে।
কিন্তু এখানেও গবেষকরা সতর্ক করেন।
Succubus ধারণার উৎপত্তি লিলিথ থেকে নয়।
বরং বহু শতাব্দীর বিভিন্ন লোকবিশ্বাস একে অপরের সঙ্গে মিশে নতুন রূপ নিয়েছে।
ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়।
এখন যদি Dead Sea Scrolls-এর দিকে তাকাই, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল পাওয়া যায়।
Songs of the Sage (4Q510–511)।
এখানে বিভিন্ন অশুভ আত্মার সঙ্গে Lilith-এর নামও এসেছে।
তবে এখানেও তাকে আদম (আ.)-এর স্ত্রী বলা হয়নি।
অর্থাৎ প্রথম শতাব্দীর আগেই লিলিথ নামটি ইহুদি ধর্মীয় পরিবেশে পরিচিত ছিল।
কিন্তু আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রীর গল্প তখনও তৈরি হয়নি।
এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝিগুলোর একটি শুরু হয়।
অনেকেই মনে করেন,
যেহেতু Genesis-এর প্রথম অধ্যায়ে নারী সৃষ্টির একটি বর্ণনা আছে এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টি আলাদাভাবে এসেছে, তাই প্রথম অধ্যায়ের নারীই নাকি লিলিথ।
কিন্তু আধুনিক বাইবেল গবেষকদের বিশাল একটি অংশ এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন না।
তাদের মতে,
Genesis 1 এবং Genesis 2 একই ঘটনার দুটি ভিন্ন সাহিত্যিক বর্ণনা।
দুটি ভিন্ন নারী নয়।
John Walton, Gordon Wenham, Nahum Sarna এবং Joel Baden-সহ বহু গবেষক এই মত সমর্থন করেছেন।
অর্থাৎ লিলিথকে আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী বলার ধারণা মূলত মধ্যযুগীয় লোককাহিনির ফল।
তাওরাতের নয়।
হিব্রু বাইবেলের নয়।
এমনকি Babylonian Talmud-এরও নয়।
এখন প্রশ্ন আরও গভীর হয়ে যায়।
যদি লিলিথ আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী না হয়, তাহলে কীভাবে সে পুরো ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর নারী ডেমোনিক এন্টিটিতে পরিণত হলো?
কীভাবে সে মধ্যযুগের জাদুবিদ্যা, ডে//নি শি//কার, Succubus কিংবদন্তি এবং পরবর্তী Satanic সাহিত্যের অংশ হয়ে উঠল?
লিলিথকে আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী হিসেবে কোথাও কুরআন, তাওরাত কিংবা Babylonian Talmud উপস্থাপন করে না।
এই ধারণাটি মূলত নবম থেকে দশম শতাব্দীর Alphabet of Ben Sira-তে জনপ্রিয় হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি মধ্যযুগীয় লোককাহিনি কীভাবে পুরো ইউরোপের সবচেয়ে পরিচিত ডেমোনিক চরিত্রে পরিণত হলো?
এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের যেতে হবে মধ্যযুগের ইউরোপে।
সেই সময় ইউরোপজুড়ে মানুষ বিশ্বাস করত, পৃথিবীতে অসংখ্য ডেমন ঘুরে বেড়ায়।
কেউ রোগ ছড়ায়।
কেউ স্বপ্নের মধ্যে আসে।
কেউ মানুষকে পাপের দিকে ঠেলে দেয়।
কেউ আবার নবজাতক শিশুদের ক্ষ//তি করে।
এই সময়েই লিলিথের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে আরেকটি নতুন ধারণা।
Succubus।
ল্যাটিন শব্দ Succuba থেকে এসেছে Succubus।
মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, Succubus ছিল এমন এক নারী ডেমন, যে রাতে মানুষের কাছে এসে তাকে প্রলোভনের মধ্যে ফেলত।
আজকের হরর সিনেমা, ভিডিও গেম এবং উপন্যাসে এই ধারণা খুবই পরিচিত।
কিন্তু গবেষকরা বলেন, Succubus ধারণার জন্ম লিলিথ থেকে হয়নি।
বরং বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার নারী ডেমোনিক কিংবদন্তি একত্র হয়ে এই চরিত্র তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়টি সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন Jeffrey Burton Russell এবং Henry Ansgar Kelly।
তাদের মতে, ইউরোপীয় লোকবিশ্বাস, ইহুদি রহস্যবাদ এবং প্রাচীন মেসোপটেমীয় কাহিনি ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
এর ফলে লিলিথের চরিত্রও বদলে যেতে থাকে।
এরপর আসে ডে//নি শি//কারের যুগ।
পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপে হাজার হাজার নারীকে ডে//নি বলে অভিযুক্ত করা হয়।
অনেককে জীবন্ত পুড়িয়ে মা//রা হয়।
এই সময় রচিত হয় বিখ্যাত বই,
Malleus Maleficarum (১৪৮৭)।
যদিও এই বইয়ে লিলিথ খুব বেশি আলোচিত নয়, তবু নারী ডেমন, প্রলোভন এবং অশুভ আত্মা সম্পর্কে যে ধারণা গড়ে ওঠে, তা পরবর্তী শতাব্দীতে লিলিথের কিংবদন্তিকে আরও শক্তিশালী করে।
এখান থেকেই লিলিথ ধীরে ধীরে শুধু একটি নাম থাকল না।
সে হয়ে উঠল নারী প্রলোভনের প্রতীক।
কিন্তু ইউরোপের ইতিহাস এখানেই থেমে থাকেনি।
ষোড়শ শতাব্দীতে জার্মান চিকিৎসক Johann Weyer লেখেন,
Pseudomonarchia Daemonum।
এই বইয়ে নরকের অসংখ্য ডেমোনিক এন্টিটির তালিকা দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে The Lesser Key of Solomon এবং এর প্রথম অংশ Ars Goetia ইউরোপে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
Bael, Paimon, Asmodeus, Buer, Balam, Astaroth, Orobas, Vine, Stolas, Furfur, Gremory, Marchosias, Malphas, Valefor, Decarabia এবং আরও বহু ডেমোনিক এন্টিটির বিস্তারিত পরিচয় সেখানে পাওয়া যায়।
মজার বিষয় হলো, Ars Goetia-র ৭২ ডেমনের তালিকায় লিলিথের নাম নেই।
এখানেই একটি বড় ভুল ধারণা ভেঙে যায়।
আজ অনেকেই মনে করেন, লিলিথ নাকি Goetic Demon।
আসলে তা নয়।
সে Goetia-র অংশই নয়।
তাহলে লিলিথ পরে কোথায় গেল?
উত্তর পাওয়া যায় আরেকটি বইয়ে।
Dictionnaire Infernal।
১৮১৮ সালে Collin de Plancy এই বই প্রকাশ করেন।
এখানে ইউরোপের শত শত ডেমন, আত্মা, লোককথা এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার তালিকা একত্র করা হয়।
এই সময় থেকে লিলিথকে আধুনিক ডেমনোলজির অংশ হিসেবে আরও বেশি আলোচনা করা শুরু হয়।
এখন প্রশ্ন হলো, শুধু ইউরোপেই কি এমন নারী ডেমোনিক সত্তার ধারণা ছিল?
উত্তর হলো, না।
প্রাচীন গ্রিসে ছিল Lamia।
কিংবদন্তি অনুযায়ী, Lamia একসময় সুন্দরী নারী ছিল।
পরে সে শিশুদের ক্ষ//তি করা এক ভয়ংকর সত্তায় পরিণত হয়।
আবার Empusa-র কথাও পাওয়া যায়।
সে রাতে মানুষের সামনে সুন্দরী নারীর রূপ নিয়ে উপস্থিত হতো।
এরপর তাদের বিভ্রান্ত করত।
রোমান যুগে দেখা যায় Strix।
Strix ছিল এমন এক নিশাচর সত্তা, যে নাকি নবজাতক শিশুদের র//ক্ত পান করত।
এই কারণেই অনেক গবেষক Strix এবং Lilith-এর মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল খুঁজে পান।
যদিও তারা একই চরিত্র নয়।
এবার যদি আমরা পারস্যে যাই, সেখানে দেখা যায় Pairika।
Avesta-তে Pairika-কে প্রলোভনের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সে মানুষকে সত্যের পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
আবার ভারতের বিভিন্ন পুরাণ এবং লোককথায় পাওয়া যায়,
ডাকিনী।
যক্ষিণী।
রাক্ষসী।
পিশাচিনী।
তাদের মধ্যে অনেকেরই রাত, মৃত্যু//, শ্মশান, ভয় এবং প্রলোভনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।
তবে এখানেও সতর্ক হওয়া জরুরি।
এই চরিত্রগুলোর কোনোটিই লিলিথ নয়।
এগুলো নিজ নিজ ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।
চীনে দেখা যায় Huli Jing, অর্থাৎ শিয়াল আত্মা।
জাপানে রয়েছে Yuki-onna এবং Hone-onna।
আরব লোককথায় রয়েছে Si’lat, Ghoul এবং Umm al-Subyan।
বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় নারী অতিপ্রাকৃত সত্তার ধারণা থাকলেও প্রত্যেকের উৎপত্তি, উদ্দেশ্য এবং বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।
তবু একটি বিষয় লক্ষণীয়।
প্রায় সব সভ্যতাতেই রাত, নির্জনতা, নবজাতক শিশু এবং অজানা ভয়ের সঙ্গে কোনো না কোনো নারী অতিপ্রাকৃত সত্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।
আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা বলেন, সম্ভবত নবজাতকের উচ্চ মৃ//ত্যুহার, মাতৃস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং রাতের অজানা ভয় থেকেই এসব লোককথার জন্ম।
অর্থাৎ অনেক সময় মানুষ এমন ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে অতিপ্রাকৃত চরিত্র তৈরি করেছে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
একবিংশ শতাব্দীতে এসে লিলিথের পরিচয় আবার সম্পূর্ণ বদলে যায়।
আজ তাকে শুধু ডেমন হিসেবে নয়, বরং বিদ্রোহ, স্বাধীনতা এবং নারীবাদের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
কীভাবে একটি প্রাচীন ডেমোনিক কিংবদন্তি আধুনিক সংস্কৃতিতে নতুন পরিচয় পেল?
কেন Netflix, ভিডিও গেম, কমিকস এবং আধুনিক Occult আন্দোলনে লিলিথ এত জনপ্রিয়?
সবচেয়ে বড় কথা, ইসলাম এই পুরো ধারণাকে কীভাবে দেখে?
লিলিথের ধারণা একদিনে তৈরি হয়নি।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার লোকবিশ্বাস।
হিব্রু বাইবেলের একটি রহস্যময় শব্দ।
মধ্যযুগীয় ইহুদি সাহিত্য।
ইউরোপীয় ডেমনোলজি।
সব মিলিয়ে প্রায় চার হাজার বছরের দীর্ঘ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের “লিলিথ” গড়ে উঠেছে।
কিন্তু ইতিহাস এখানেই থেমে থাকেনি।
বিংশ শতাব্দীতে এসে লিলিথ আবার নতুন রূপ ধারণ করে।
এবার আর তাকে শুধু ডেমোনিক এন্টিটি হিসেবে দেখা হলো না।
বরং কিছু লেখক এবং আন্দোলন তাকে বিদ্রোহ, স্বাধীনতা এবং নারী প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করলেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ১৯৭০-এর দশকের পশ্চিমা Feminist আন্দোলন।
১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয় Lilith Magazine।
ইহুদি নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এই সাময়িকী সচেতনভাবেই “Lilith” নামটি বেছে নেয়।
তাদের যুক্তি ছিল, Ben Sira-এর গল্প অনুযায়ী লিলিথ প্রথম নারী, যে কারও অধীন হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
তবে এখানেও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
এটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা নয়।
এটি আধুনিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্ব্যাখ্যা।
এরপর ধীরে ধীরে লিলিথ ঢুকে পড়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে।
কমিকস।
উপন্যাস।
অ্যানিমে।
ভিডিও গেম।
হলিউড।
Netflix-এর বিভিন্ন সিরিজ।
Diablo।
Dungeons & Dragons।
Shin Megami Tensei।
Castlevania।
Darkstalkers।
True Blood।
Supernatural।
Lucifer-সহ অসংখ্য আধুনিক কাহিনিতে লিলিথকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কোথাও সে ডেমনদের রানি।
কোথাও শয়তানের স্ত্রী।
কোথাও নরকের সম্রাজ্ঞী।
কোথাও আবার মানবজাতির প্রথম বিদ্রোহী নারী।
মজার বিষয় হলো, এই পরিচয়গুলোর অধিকাংশই আধুনিক কল্পকাহিনি।
প্রাচীন ধর্মীয় উৎসে এভাবে কোথাও তাকে বর্ণনা করা হয়নি।
এরপর আসে আধুনিক Occult আন্দোলন।
বিশেষ করে Thelema, Chaos Magic, Wicca-এর কিছু ধারা এবং বিভিন্ন Esoteric গোষ্ঠীতে লিলিথকে রহস্য, গোপন জ্ঞান এবং স্বাধীন আত্মার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়।
কিছু Satanic গোষ্ঠীতেও তার নাম দেখা যায়।
তবে এখানেও সতর্ক হওয়া জরুরি।
সব Satanic গোষ্ঠী লিলিথকে গ্রহণ করে না।
আবার সব Occult ধারাও তাকে একইভাবে দেখে না।
অর্থাৎ আধুনিক যুগেও লিলিথের পরিচয় এক নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, ইসলাম এই পুরো বিষয়টিকে কীভাবে দেখে?
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলামের মূল উৎসগুলোতে লিলিথের কোনো অস্তিত্বই নেই।
কুরআনে তার নাম নেই।
সহিহ হাদিসে তার নাম নেই।
সহিহ আকিদার কোনো গ্রন্থে তার আলোচনা নেই।
আদম (আ.)-এর প্রথম স্ত্রী হিসেবে তার কোনো উল্লেখ নেই।
বরং কুরআন খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়,
আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন।
এরপর তার থেকেই তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেন।
আল্লাহ বলেন,
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা আন-নিসা, ৪:১)
একই বিষয় সূরা আল-আ’রাফ, সূরা আয-যুমার এবং সূরা আল-বাকারার বিভিন্ন আয়াতেও এসেছে।
কোথাও দুই স্ত্রী কিংবা প্রথম স্ত্রী সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই।
এখন প্রশ্ন আসে,
কিছু ইসলামি বইয়ে লিলিথের মতো গল্প কেন পাওয়া যায়?
এর উত্তর পাওয়া যায় ইসরাঈলিয়াত-এ।
ইসলামের প্রথম যুগে অনেক ইহুদি ও খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ পূর্ববর্তী ধর্মীয় লোককাহিনি এবং কিংবদন্তিও বর্ণনা করতেন।
তাফসিরের কিছু গ্রন্থে এসব বর্ণনা স্থান পায়।
কিন্তু মুহাদ্দিস এবং আকিদার ইমামরা বারবার সতর্ক করেছেন,
এ ধরনের বর্ণনাকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর সমান গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।
ইবন কাসির, ইবন তাইমিয়্যাহ এবং ইবন হাজার আল-আসকালানি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তারা বলেন,
যে ইসরাঈলিয়াত কুরআন ও সহিহ হাদিসের বিরোধিতা করে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
যার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, সে বিষয়ে নীরব থাকাই উত্তম।
এখন যদি পুরো ইতিহাসকে একসঙ্গে দেখি, একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রাচীন সুমেরে ছিল Lil।
আক্কাদে Lilitu।
হিব্রু বাইবেলে Lilit।
মধ্যযুগে Alphabet of Ben Sira।
এরপর Kabbalah।
তারপর ইউরোপীয় ডেমনোলজি।
পরে আধুনিক সাহিত্য।
এরপর সিনেমা।
ভিডিও গেম।
অবশেষে সামাজিক আন্দোলন।
প্রতিটি যুগ নিজের মতো করে লিলিথকে নতুন পরিচয় দিয়েছে।
কিন্তু ইসলাম এই পুরো ধারার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
কুরআন মানুষের কৌতূহল মেটানোর জন্য অদৃশ্য জগতের প্রতিটি চরিত্রের তালিকা দেয় না।
বরং এমন তথ্যই দেয়, যা মানুষের হিদায়াতের জন্য প্রয়োজন।
এই কারণেই কুরআন লিলিথ নিয়ে নীরব।
কারণ মানুষের মুক্তি নির্ভর করে না, লিলিথের গল্প জানার ওপর।
বরং নির্ভর করে আল্লাহর আনুগত্যের ওপর।
